যোগ্যতা ডুবেছে, ক্ষমতা–টাকা–সুবিধাভোগীরাই ভাসছে!
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়া এখন রীতিমতো বিতর্কের আগুনে দাউ দাউ করছে। অভিযোগ,যোগ্য, পরিশ্রমী, মাঠের নেতাকর্মীদের নয়; বরং বিশেষ সুবিধাভোগী, টিমের “প্রিয়পাত্র” আর গোপন সুবিধা দানকারীরাই পাচ্ছেন শীর্ষপদে বসার টিকিট। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গভীর সন্দেহ।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আলোচনা সভা শুরু হয় ২২ মে, সদস্য ফর্ম ২৯ জুলাই, ভাইভা ২৩ সেপ্টেম্বর,কিন্তু বাস্তবে পুরো নিয়োগযজ্ঞ চলছে এক গোপন সিলেকশন বোর্ডের মতো। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ছিল,৫ আগস্টের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যানারে অন্তত পাঁচটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ বলছে,এই নিয়মের কবর আগেই রচিত হয়েছে।
রাফিকে ঘিরে ঝড়, অভিযোগ–পদ বেচাকেনা” চলছে!
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে রাফি শিকদারকে নিয়ে।১৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেই লিখেছিলেন-তিনি নাকি ছাত্রদল-ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির কোনো রাজনীতি চান না!কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়-আজ তিনিই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার দৌড়ে প্রথম সারিতে!

নিয়ম অনুযায়ী তার ৫ আগস্টের আগে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যানারের ছবি থাকার কথা-যা নেই।তারপরও দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম তাকে উপরে তোলার জন্য বিশেষ কাউন্সিল, বিশেষ সুবিধা আর বিশেষ তদবিরে যেন প্রাণপাত করছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ আরও ভয়ংকর,
রাফি শিকদারের বাবার গাড়ি–খাবার–হোটেল ফ্রি সুবিধা নাকি পাচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম।ভিতরে ভেতরে টাকা–প্রভাব–লেনদেন,সবচুজ অস্বচ্ছ আলোচনায় ঘুরছে।
অভিযোগের তালিকা আরও লম্বা…
নেতাকর্মীরা বলছেন,রাফি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ,একাধিক মামলার আসামি,জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত, নিজের দোকানের উদ্বোধন, শো–অফ নিয়ে নানা ভিডিও ভাইরাল,

এই অবস্থায় তাকে উচ্চপদে বসানোর চেষ্টা সংগঠনের ভেতরে ফুঁসতে থাকা ক্ষোভে ঘি ঢালছে।
এক প্রার্থী সরাসরি বলেন,যোগ্যতার বদলে টাকা–প্রভাব চলে তাহলে পরিশ্রমীরা বঞ্চিত হবে, আর সংগঠনের ভিতই ধসে পড়বে।”
যোগাযোগ করলেও সাড়া মেলেনি…
এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের নেতৃত্বদানকারী কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দীপু পাটোয়ারীর সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে,তিনি কল রিসিভ করেননি।অপরদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করলে তাতেও সাড়া মেলেনি।


